শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার তক্কার মাঠ এলাকায় দেলু ও তাহের গংয়ের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা, প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এলাকার একাধিক ব্যক্তি আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দ্বারস্থ হলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, রানী আক্তার নামে এক স্বামীহারা নারী দেলুর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন। তার দাবি, দেলু তাকে ধর্মকন্যা হিসেবে পরিচয় দিয়ে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে নিজের মালিকানাধীন ৪ শতাংশ জমি বিক্রির প্রস্তাব দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি শতাংশ ১০ লাখ টাকা হিসেবে মোট ৪০ লাখ টাকায় জমি বিক্রির বিষয়ে উভয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়। প্রথম ধাপে ১০ লাখ টাকা গ্রহণের মাধ্যমে রেজিস্ট্রিকৃত বায়না সম্পন্ন করা হয়। পরে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে আরও ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন দেলু। এছাড়া ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের কথা বলে রানী আক্তারের কাছ থেকে আরও ১২ লাখ টাকা ধার নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রানী আক্তারের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পার হলেও জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, অধিক লাভের আশায় ওই জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে বায়নার অর্থ ও ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে তিনি হুমকি, ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দেলু সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, রানী আক্তার বা অন্য কারও সঙ্গে তার কোনো আর্থিক লেনদেন নেই এবং কেউ তার কাছে কোনো টাকা পাওনা নয়।
এদিকে সরেজমিনে তক্কার মাঠ এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে আরও নানা অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেলু ও তাহের গং অতীতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয়, নির্মাণসামগ্রী পরিবহন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের প্রভাব রয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়া এলাকায় জমি বেচাকেনা কিংবা বড় ধরনের নির্মাণকাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জমি দালালির আড়ালে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে একই জমি নিয়ে লেনদেন, অর্থ আত্মসাৎ এবং বিরোধ সৃষ্টি করে পরবর্তীতে মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানকালে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করেন। তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী মামুনসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, যারা জমি ও বাড়ি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
এছাড়া স্থানীয় একটি বাড়ি নিয়ে মালিকানা বিরোধের বিষয়েও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িটির প্রকৃত মালিক অন্য একজন নারী হলেও প্রভাব খাটিয়ে সেটি দখলে রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শহীদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তক্কার মাঠ এলাকার সচেতন মহল মনে করছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন