শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গ্যাস লিকেজ থেকে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চার দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে একে একে নিভে গেল দগ্ধ চারজনেরই জীবন প্রদীপ। পুরো পরিবার ও স্বজনদের কাঁদিয়ে সবাই পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।
গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যান স্বামী শরীফ এবং স্ত্রী রোজিনা। একই দিন সকালে মৃত্যু হয় রোজিনার ভাই রিয়াজের। সবশেষ শুক্রবার সকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দুর্ঘটনাকবলিত বাড়িটির কেয়ারটেকার রনি।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসকরা জানান, অগ্নিকাণ্ডে চারজনের শরীরেই আগুনের তীব্রতা ছিল আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণে রনির শরীরের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং রোজিনার ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এছাড়া শরীফ ও রিয়াজ উভয়ের শরীরেরই ৪০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর সোনাপুর এলাকায় এক আবাসিক ভবনে জমে থাকা গ্যাস লিকেজ থেকে এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুটি পরিবারের চার সদস্য গুরুতর দগ্ধ হন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন