শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদক ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিনকে বৃহস্পতিবার রাতে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতারের পর ফতুল্লায় তার মাদক নেটওয়ার্ক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, একসময় ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাদকের অর্ডার নিয়ে সরবরাহ করতেন মহসিন। পরবর্তী সময়ে খুচরা পর্যায় পেরিয়ে ফতুল্লা, সাইনবোর্ড, মাসদাইরসহ আশপাশের এলাকায় পাইকারি মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক নিয়ে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার সহ থানার তালিকাভুক্ত শির্ষস্থানীয় মাদক ব্যাবসায়ী হিসেবে মহসিনের নাম অন্তভুক্ত হয়। এতে করে সে জেলা পুলিশ সুপার সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মাদক ব্যবসা ছাড়ার মুচলেকা দেয়।
অপর একটি সূত্রন জানায়,মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার পরও তিনি আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ফল বিক্রির ব্যবসা শুরু করলেও সেটি ছিল প্রশাসনের নজর এড়ানোর কৌশল—এমন অভিযোগ রয়েছে। পরে ঢাকা জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেলপাড়াস্থ মহসিনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার আইস ও ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির কয়েক লাখ টাকা সহ তাকে আটক করে। এ সময় মহসিনের তিন সহোযোগি কে ও আটক করে।
আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে মহসিন রাজনৈতিক আশ্রয় খুজে বেড়ায়৷ এবং তা সহজেই পেয়ে যায়। ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান দোলন মাদক সেবনে অভ্যস্ত থাকায় তার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে মহসিনের। বিভিন্ন মিছিল, মিটিং ও সমাবেশে মহসিন লোকবল নিয়ে যোগদানের পাশাপাশি অর্থের যোগানদাতা হয়ে উঠে। ফলে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে ছাত্রদল এবং যুবদলের নেতাদের নিকট পরিচিত মুখ হয়ে উঠে মহসিন। তার উপস্থিতি নিয়ে একাধিক নেতাকর্মীর প্রশ্ন তুললেও শির্ষস্থানীয় নেতারা তা আমলে না নিয়ে উল্টো এ বিষয়ে কোন মন্তব্য না করার জন্য বলেন এমনটাই অভিযোগ করেছে গতকালের গ্রেফতারের পর অনেক নেতাকর্মী।কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোলন এবং ভাইয়ের জন্য আজ আমাদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহসিনের সাথে সরকারদলীয় বেশকিছু ঘনিস্ঠতার ছবি ছড়িয়ে পরায় অনকেই দোলন কে দোষারপ করছেন।
অপর এক সূত্র মতে,মাদক ব্যবসার তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়ার অভিযোগে সোহাগ নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মহসিনের বিরুদ্ধে। সোহাগ হত্যা মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর মহসিন ভুইগড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। সেখানে সকল প্রকার আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকার দলীয় ছাত্রদল নেতা দোলনের বিরুদ্ধে। জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেষা একটি অফিস কক্ষে বসে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও কেউ ঘুনাক্ষরেও বুজতে পারেনি। কারন সে বহুতল ভবনে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বসবাসের পাশের ভবনটিতে রয়েছে আবার জেলার মাদকনিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়।
স্থানীয়দের দাবি, সেখানে মাদক সেবনের আড্ডা বসত এবং রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনের যাতায়াত ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আশ্রয়ে তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের অভিযানের সময় পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে কয়েকজন যুবক মাদক সরিয়ে পালিয়ে যায় বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে এ তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, আটকের পর মহসিনকে ছাড়িয়ে নিতে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি থানায় যোগাযোগ করেছিলেন। গভীর রাতেও কয়েকজন যুবক থানায় এসে তাদের সঙ্গে দেখা করেন বলে আরেক পুলিশ সদস্য দাবি করেছেন।
মহসিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—বারবার গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কীভাবে তিনি মাদক ব্যবসায় সক্রিয় থাকার সুযোগ পেলেন, আর তার কথিত নেটওয়ার্কের পেছনে কারা রয়েছে?
উল্লেখ্য যে বৃহস্পতিবার রাতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মোঃ শামিমের নেতৃত্বে ফতুল্লার ভুইগড়স্থ কে,এম,এস টাওয়ারের দ্বিতীয় তলার একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান পাসপোর্ট,ভূয়া এন,আই,ডি,জাল সিল, একটি সুইচ গিয়ার ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম সহ শির্ষ মাদক ব্যবসায়ী মহসিন সহ তিনজকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন