বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন
নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে হঠাৎ করেই এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তিতাসের পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় মানুষ যখন সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, ঠিক তখনই বাজারে দেখা দিয়েছে সংকট।
অভিযোগ উঠেছে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বাড়তি দিয়েও খুচরা বাজারে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার করছেন সাধারণ মানুষ।
ভোক্তাদের দাবি, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে। যে সিলিন্ডার গত সপ্তাহে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় মিলত, তা এখন কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চরম আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা এই পরিস্থিতির জন্য ডিলারদের দায়ী করছেন। তাদের দাবি, কোম্পানিগুলো থেকে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দোকানে গ্যাস আসা মাত্রই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ফতুল্লা এলাকার একজন বিক্রেতা জানান, চাহিদার বিপরীতে ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলেই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে সীমিত সরবরাহ পেলেও তা সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারছে না।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ওমেরা ও ফ্রেশসহ হাতেগোনা দু-একটি কোম্পানির গ্যাস বাজারে সামান্য পরিমাণে পাওয়া গেলেও অন্য জনপ্রিয় কোম্পানির সিলিন্ডারগুলো একপ্রকার উধাও। বিকল্প কোনো সুযোগ না থাকায় নিরুপায় হয়ে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
গ্যাসের এই অস্থির মূল্যের প্রভাব পড়েছে নারায়ণগঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও। হোটেল ও চা দোকান মালিকরা জানায়, কাঁচামালের দামের সাথে গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি তাদের ব্যবসাকে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে সিলিন্ডার সংকটের বিষয়ে স্থানীয় ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সরবরাহ ঘাটতি ও বাড়তি দামের কারণে জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাজার তদারকি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে- এমনটাই প্রত্যাশা নারায়ণগঞ্জের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের।
| Dhaka, Bangladesh বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬ শাবান, ১৪৪৭ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:২১ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:৩৮ |
| যোহর | দুপুর ১২:১২ |
| আছর | বিকাল ৩:২৪ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৫:৪৭ |
| এশা | রাত ৭:০৪ |
আপনার মতামত কমেন্টস করুন